দূরের সন্দেশ

বিংশ শতাব্দীর ব্রিটিশ ভাস্কররা নিজেকে ও পরিবেশকে ফুটিয়ে তোলার যেসব নতুন নতুন উপায় উদ্ভাবন করেছেন, এই প্রদর্শনী সেই সব উপায়ের উপর আলোকপাত করেছে। পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান গতি, বিশ্বায়ন, জনসংখ্যা ও ব্রিটেনের ভিতরের ও বাইরের চিন্তা-ভাবনা, সবকিছুর ভূমিকা আছে এই ভূমির দ্রুত পরিবর্তনে। আমাদের ভাস্কররা এর জবাব দিয়েছেন অপ্রতিরোধ্য সংকল্পের সঙ্গে, নতুন আকারে, নতুন আঙ্গিকে, নতুন কাঁচামালে এবং ভাস্কর্য শুধুমাত্র বেদিতে প্রদর্শনের বস্তু্তএই ধারণার ভিত নাড়িয়ে দিয়েছেন।

এই প্রদর্শনীর সবচেয়ে পুরনো ভাস্কর্য হলো হেনরি মুর ও বারবারা হেপওয়র্থের। দুজনেরই কাজ শুরু মানুষের কায়া নিয়ে। মুর, পুরোপুরি পশ্চিমা ধাঁচের বিপরীতে, মানুষের আকৃতিকে পৃথক করে, পুরো শরীরকে নতুন রূপ দিয়ে, নতুনভাবে, খুব সাবধানে ভারসাম্য রক্ষা করেন। অপরদিকে, হেপওয়র্থের কাজ অনেক হালকা, নাজুক। তার ডানাওয়ালা ভাস্কর্য চামড়ার মতো পাতলা পিতলে তৈরি, দুই অর্ধাংশে ঝোলানো, ফলে এটি আলোর সঙ্গে শব্দও বিকিরণ করে। অন্য যারা কায়া নিয়ে কাজ করেন তারা হলেন ব্যারি ফ্ল্যানাগান যার খরগোশ ক’টি ক্রিকেট স্ট্যাম্পের উপর দু-পায়ে দাড়িয়ে থাকে এবং বিল উডরো, যার কোনো কিছুর ভাস্কর্য নেই, তবে পুরনো গাড়ির বনেট থেকে দুটি ওয়াকিটকি, একটি টেলিফটো লেন্স ও একটি বুলেট বানিয়েছেন। পরিত্যক্ত শিল্পজাত জিনিস থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে তিনি গুপ্তচরদের রহস্যময় জগৎ সৃষ্টি করেন।

প্রদর্শনীর অন্য জিনিসগুলো হাতের বিচিত্র কারুকার্য ফুটিয়ে তোলে, যেমন মাইকেল ক্রেইগ-মার্টিনের ্তুচরপঃঁৎরহম : ওৎড়হ, ধিঃপয, ঢ়ষরবৎং, ংধভবঃু-ঢ়রহ’, যা একটি দেয়ালে কালো টেপ দিয়ে গৃহের দ্রব্যাদি প্রদর্শন করে, রিচার্ড লং-এর ্তুঞযৎবব গড়ড়ৎং, ঞযৎবব ঈরৎপষবং’, যা অক্ষরের মাধ্যমে শিল্পীর একটি ভ্রমণের চিত্র ফুটিয়ে তোলে।

এছাড়াও এই প্রদর্শনী আমাদের সংস্কৃতি কিভাবে পশ্চিমা ছাড়াও অন্য শিল্পীদের দ্বারা সমৃদ্ধ হয়েছে তা দেখায়। মোনা হতাম, যিনি প্যালেস্টাইনে জন্ম নিয়ে লেবাননে বেড়ে উঠেছেন এবং ব্রিটেনে বাস করেন। তার ১৯৯৫-এর ্তুচৎধুবৎ গধঃ’ ভেলভেটের ন্যায় মেঝেতে বিছানো থাকে, ও কাছ থেকে না দেখলে বোঝার উপায় নেই এটি জামার পিনের তৈরি, যা রাজনৈতিক অবস্থাকে কটাক্ষ করে। নাথান কলির ্তুঈধসড়ঁভষধমব ইধুৎধশষর গড়ংয়ঁব’ কিভাবে একজন ব্রিটিশ শিল্পী বলকান যুদ্ধের পরপরই বেলগ্রেডের রাজনৈতিক অবস্থার ব্যাপারে সংবেদনশীল হয়ে ওঠেন। যুদ্ধের আগে এই শহরে ২০০টি মসজিদ ছিল, কিন্তু যুদ্ধের পর শুধুমাত্র বেরাকলি মসজিদ টিকে আছে। কলি এটি এমনভাবে তৈরি করেছেন যেন এটি একটি যুদ্ধের মধ্যে আছে, এবং এর আয়না বেদি যেন চারপাশের ধ্বংসযজ্ঞ ফুটিয়ে তোলে।

আমাদের যৌথ উদ্যোগে ২০০৬-এ হেনরি মুরের ছাপচিত্রের প্রদর্শনীর সাফল্যের পর আমরা ঠিক করি যৌথ উদ্যোগে আরেকটি প্রদর্শনী করার। হেনরি মুরের প্রদর্শনীটি ছিল প্রথম সাফল্য এবং আমি নিশ্চিত এই প্রদর্শনীটিও আরো সাফল্যময় হবে। এই দ্বিতীয় ভাস্কর্য প্রদর্শনীর সঙ্গী হওয়ার জন্যে আমি ধন্যবাদ জানাই বেঙ্গল গ্যালারী অফ ফাইন আর্টসকে, ব্র্যাক ব্যাংককে তাদের সহায়তার জন্য। আমি দৃঢ়ভাবে আশা করি, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে আমাদের মধ্যেকার বস্তুগত দূরত্ব কমে আসবে।

লন্ডনে এই প্রদর্শনীর কিউরেটর ছিলেন হানাহ হান্ট, ব্রিটিশ কাউন্সিলের ভিজুয়াল আর্টসের কিউরেটর। তাকে সবদিক দিয়ে সাহায্য করেছেন ডায়ানা একল্‌স, সারাহ জিলেট ও জেমা ল্যাটি।

আমাদের মধ্যকার দূরত্ব আরো কমে আসুক।

ডাইরেক্টর, ভিজুয়াল আর্টস,
ব্রিটিশ কাউন্সিল, লন্ডন

আন্দ্রিয়া রোজ

Enter your keyword