মিতা হক: সুধীরদাকে প্রথম কবে দেখেছি সঠিক মনে পড়ছে না। আমার গুরু (জ্যাঠা) ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে সুধীরদা’র আজিমপুরের বাড়িতে তাঁর বাবার মৃত্যুদিনে এক স্মরণ অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম আমরা ক’জন। গান গাইলাম, গান শুনলাম। চয়ন তখন ফ্রক পরা এক আহ্লাদি মেয়ে, সুধীরদা ও টুকু বৌদির বড় মেয়ে। ছায়ানটে গান শেখে, খুব যত্ন করে গান শোনালো। সেই থেকে পাপুকে (চয়ন মল্লিকের ডাক নাম) দেখে আসছি বহুদিন হলো। পাপু বড় হলো, ছোট ভাই শঙ্খনাদকে নিয়ে আমার বাড়িতে গানের ক্লাসে আসতে শুরু করলো। পড়াশোনা শেষে পাপু স্বামীকে নিয়ে বিলেত পাড়ি দিল। বর্তমানে কানাডা প্রবাসী তাই এর মধ্যে অনেকদিন ওর গান শোনা হয় না। হঠাৎ সেদিন এই সিডির বেশ কিছু গান শুনলাম। এ এক নতুন চয়ন নতুন মাধুর্য্য আর গভীরতায় গানগুলি আমাকে খুব টানলো। ‘আজি বিজন ঘরে’ ও ‘নয়ান ভাসিল জলে’ থেকে একে একে ওর সবক’টি গান আমাকে একটা আবেশে বেঁধে রাখলো। আমার ভালো লেগেছে এজন্যে যে, কোন রকম আরোপিত গায়কি চয়নের মধ্যে অনুপস্থিত। একেবারেই সরলতায়, সুরে ও বাণীর সহজ উচ্চারণে গানগুলি গেয়েছে সে। আমি বিশ্বাস করি গানগুলি শ্রোতার ভালো লাগবে। চয়নের জন্যে আমার গভীর স্নেহ ও শুভকামনা রইল, তার গান আরো অগণিত শ্রোতার হৃদয় সুধায় ভরিয়ে তুলুক এই প্রার্থনা করি।