সৈয়দ শামসুল হকের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণ করি শ্রদ্ধায়
সৈয়দ শামসুল হক বাংলা সাহিত্যের প্রবাদপ্রতিম এক ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছিলেন। সাহিত্যের সকল শাখায় তাঁর সৃজনী উৎকর্ষ, বহুমুখীন কর্মের যে উজ্জ্বল স্বাক্ষর তিনি রেখে গেছেন, তা বাংলা সাহিত্যের ভুবনকে সমৃদ্ধ করেছে। বিগত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশক থেকে বাংলাদেশের সাহিত্যে হাতেগোনা যে কয়েকজন আধুনিকতার পথ নির্মাণ করেছিলেন সৈয়দ শামসুল হক ছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম। দীর্ঘদিনের চর্চা ও সাধনার মধ্য দিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। কবিতা, ছোটগল্প, উপন্যাস, মৌলিক নাটক সৃজন, সাহিত্যের কলাম রচনায় ও শেক্সপিয়র-অনুবাদ তাঁর লেখনীর বৈশিষ্ট্যে ও জীবনের রূপায়ণে নতুন মাত্রা অর্জন করেছে। ভাষা ও শৈলী তাঁর কলমে বিশেষভাবে প্রচলিত ধারা থেকে ভিন্ন হয়ে উঠেছে। সাহিত্যের বিভিন্ন বিভাগকে তাঁর সৃজনবৈভব দ্বারা তিনি যে-উচ্চতায় স্থাপন করেছেন তার কোনো তুলনা নেই। তাঁর কবিতা ও গদ্য রচনার শৈলী উত্তরকালের জন্য অনুকরণযোগ্য হয়ে উঠেছে। সাহিত্যের চর্চা ও সাধনা তাঁর জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে মিশে গিয়েছিল। তাঁর গদ্যের শৈলী, নাটকের সংলাপ ও কাব্যভাষার বৈশিষ্ট্য বাংলা সাহিত্যকে নবীন আবেগে দীপিত করেছে – এ ব্যাপারে আজ আর সন্দেহ নেই।
জন্মলগ্ন থেকে কালি ও কলমের সঙ্গে তাঁর প্রীতিময় সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তিনি ছিলেন এ পত্রিকার শুভার্থী। তাঁর অগণিত রচনা কালি ও কলমে পত্রস্থ হয়েছে।
বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের জন্মলগ্নে তিনি ছিলেন কর্ণধার; পরবর্তীকালে বেঙ্গল থেকে প্রকাশিত চারবেলা চারদিক পত্রিকারও সম্পাদকম-লীর সভাপতি ছিলেন।
২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ এ কীর্তিমান পুরুষের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী।
তাঁর স্মৃতির উদ্দেশে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন ও তাঁকে ভালোবাসায় স্মরণ করছে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনসহ এর সকল অঙ্গ ও সহযোগী প্রতিষ্ঠান।