সুবীর চৌধুরীর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত
বেঙ্গল গ্যালারি অব ফাইন্ আর্টসের পরিচালক ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের অন্যতম ট্রাস্টি সুবীর চৌধুরী আজ সোমবার (৩০ জুন ২০১৪) সকালে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরলোকগমন করেছেন। তিনি মস্তিষ্কের শিরায় ক্যান্সারজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র ও এক কন্যা এবং অগণিত বন্ধু ও সুহৃদ রেখে গেছেন।

তিনি বাংলাদেশের চিত্রকলা আন্দোলনকে সঞ্জীবিত ও দেশে-বিদেশে বাংলাদেশের চিত্রকলাকে পরিচিতকরণের জন্য নিরন্তর কাজ করেছেন ও বহু প্রদর্শনীর আয়োজন করেছেন। ঢাকা এশীয় দ্বি-বার্ষিক চারুকলা প্রদর্শনীর আয়োজন ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায়
তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে আছে।
তিনি ১৬ মার্চ অস্ট্রেলিয়ার তিনটি শহরে বাংলাদেশের সমকালীন শিল্পীদের ‘জন্মভূমির গান’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনীর আয়োজন ও ১০ সদস্যের একটি দল নিয়ে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ক্যানবেরায় প্রদর্শনীর উদ্বোধনী দিনে তিনি আকস্মিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। শারীরিক পরীক্ষার পর তাঁর মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ে।
উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিডনির ওয়েস্টমিড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অস্ট্রেলিয়ায়
চিকিৎসাকালে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন সর্বদা তাঁর সঙ্গী ছিল। ডাক্তারের পরামর্শে তাঁকে এপ্রিলে কেমোথেরাপি দেওয়া শুরু করা হয়।

সুবীর চৌধুরীর একমাত্র পুত্র স্থপতি ইমন চৌধুরী উচ্চতর শিক্ষার জন্য ব্রিসবেনে থাকায় তিনি মৃত্যুকালে পিতার শয্যাপাশে ছিলেন। এছাড়া ক্যানবেরা, মেলবোর্ন ও সিডনির অগণিত বাঙালি তাঁর সেবা করেছেন।

সুবীর চৌধুরী ১৯৫৩ সালের ২২ ফেব্র“য়ারি জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ষাটের দশকের মধ্যপর্যায়ে আইয়ুববিরোধী আন্দোলনকালে, তিনি যখন স্কুলের ছাত্র, তখন কারারুদ্ধ হন।

মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কলকাতাস্থ লিয়াজোঁ অফিসের সঙ্গে যুক্ত থেকে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে ভূমিকা রাখেন।

তিনি ১৯৭৪ সালে চারু ও কারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে স্মাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৭৫ সালে তিনি চিত্রকলা বিভাগের সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগ দেন ও পরবর্তীকালে এই বিভাগের পরিচালক হন।

২০০৪ সালে তিনি বেঙ্গল গ্যালারির পরিচালক হন। পরবর্তীকালে তিনি বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও ট্রাস্টি হন। তিনি দেশে ও বিদেশে অগণিত প্রদশর্নীর আয়োজন করেন ও বহু উল্লেখযোগ্য সুচারু আর্ট ক্যাম্পের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় তিনি হয়ে ওঠেন একজন অসামান্য সংগঠক।

শিল্পকলা একাডেমী ও বেঙ্গল গ্যালারিতে কর্মসূত্রে তিনি পৃথিবীর বহু দেশ ভ্রমণ করেন এবং বিশ্বের খ্যাতনামা গ্যালারিসমূহের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
বেঙ্গল গ্যালারি অব্ ফাইন আর্টসের পরিচালক ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের অন্যতম ট্রাস্টি সুবীর চৌধুরীর মরদেহ অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে আগামী শুক্রবার দুপুর ১২টায় ঢাকা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছবে। শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তাঁর মরদেহ ধানমণ্ডিস্থ বেঙ্গল শিল্পালয়ে বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাখা হবে। শিল্পী, লেখক, বন্ধু, সুহৃদ ও সংস্কৃতি অনুরাগীজনসহ সর্বস্তরের মানুষ অন্তিম শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন। বেঙ্গল শিল্পালয়ে সন্ধ্যায় সকলের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পরদিন শনিবার সকাল ১১.৩০টা থেকে দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে, দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগে এবং ২.৩০টা থেকে ৩টা পর্য ন্ত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে মরদেহ রাখা হবে। বিকেল ৩.৩০টায় সবুজবাগ শ্মশানঘাটে সুবীর চৌধুরীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
১১ জুলাই শুক্রবার বেঙ্গল শিল্পালয়ে বিকেল ৪টায় স্মরণসভা এবং পরদিন ১২ জুলাই শনিবার সকাল ৮টায় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান হবে।
উল্লেখ্য, সুবীর চৌধুরী গত ৩০ জুন সকালে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরলোকগমন করেন। তিনি মস্তিষ্কের শিরায় ক্যান্সারজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন।