পদ্মাপার হতে ঘোর বর্ষা : বাংলাদেশি রবীন্দ্রনাথের খোঁজ
আগামী ১২ জুলাই শনিবার সন্ধ্যা ৬.৩০ মি. বেঙ্গল শিল্পালয়ে ‘পদ্মাপার হতে ঘোর বর্ষা : বাংলাদেশি রবীন্দ্রনাথের খোঁজ’ শিরোনামে বক্তৃতা প্রদান করবেন ড. নাভিন মুরশিদ। অনুষ্ঠানে প্রারম্ভিক বক্তব্য রাখবেন ড. সামিনা লুৎফা।
আপনি সবান্ধব আমন্ত্রিত।
ড. নাভিন মুরশিদ
অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ঢাকা এবং সহযোগী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, কোলগেট ইউনিভার্সিটি, নিউইয়র্ক।
ড. সামিনা লুৎফা
অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
শনিবার সন্ধ্যা ৬.৩০ মি.
১২ জুলাই ২০২৫
বেঙ্গল শিল্পালয়
লেভেল ৭, বাড়ি ৪২, সড়ক ২৭
ধানমন্ডি, ঢাকা ১২০৯
You are cordially invited to a talk titled ‘Poddapaar hote ghor borsha : Bangladeshi Rabindranather khoj’ (In the heart of the monsoon, along the Padma : In Search of a Bangladeshi Rabindranath) on Saturday, July 12th at 6:30 PM, at Bengal Shilpalay. Dr. Navine Murshid—Professor of Political Science and Sociology at North South University, Dhaka, and Associate Professor of Political Science at Colgate University, New York—will present the talk. The event will open with introductory remarks by Dr. Samina Luthfa, Professor of Sociology, University of Dhaka.
July 12, 2025
Saturday, 6:30 PM
Bengal Shilpalaya
Level 7, House 42, Road 27
Dhanmondi, Dhaka 1209
‘বাংলাদেশি রবীন্দ্রনাথ’ বলে কি কিছু আছে? যদি আমরা তাঁকে খুঁজতেই চাই, কোথায় পাবো তাঁরে? এই আলোচনাটি সেই অন্বেষণের একটি চেষ্টা। পূর্ববঙ্গে কাটানো দিনগুলোতে রবীন্দ্রনাথ নতুন দুটি পথে যাত্রা করেছিলেন, আমার বিশ্লেষণ বলে। একদিকে তিনি হয়ে উঠেছিলেন আরো আধ্যাত্মিক, অন্যদিকে আরো বস্তুনিষ্ঠ ও মানবিক। এই রূপান্তরের পেছনে দুটি প্রধান প্রভাব আমার নজরে পড়ে। প্রথমত, এখানকার নদী — পদ্মা, গড়াই, ইছামতী — আর তার সঙ্গে বিশাল, খামখেয়ালি আকাশ, যা তাঁর মধ্যে এক গভীর আধ্যাত্মিকতার জন্ম দিয়েছিল। দ্বিতীয়ত, এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ, যাদের সংস্পর্শে এসে তাঁর শিল্প ও জীবনবোধ এক নতুন বাস্তবতার সম্মুখীন হয়।
এই যাত্রাপথটি বোঝার জন্য আমি দুটো দিকে নজর দেব : পূর্ববঙ্গে জমিদারি দেখাশোনাকালে লেখা তাঁর চিঠি এবং সেই সময়ে রচিত তাঁর গান। এই চিঠি আর গানের মধ্যে দিয়েই আমরা খুঁজে দেখব, কীভাবে ত্রিশ বছর বয়সী রবীন্দ্রনাথের মধ্যে এক নতুন শিল্পসত্তার জন্ম হচ্ছিল, যার শেকড় ছিল এই বাংলাদেশের মাটিতেই। এও তখন ভাবার বিষয় হয়ে ওঠে – আমরা আজকে যখন রবীন্দ্রচর্চা করি বাংলাদেশে, কোন রবীন্দ্রনাথকে আমরা মনে করি, বা ধারণ করি? এক অর্থে বলা যায়, আমরা পশ্চিমা চশমা দিয়ে দেখা সাধুসন্ন্যাসী রবীন্দ্রনাথকে বা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথকে দেখে থাকি — সেই ছবি ঘুরে বেড়ায় নানা জায়গায়। কিন্তু সেই প্রবীণ, সাধু রবীন্দ্রনাথকে আমরা প্রত্যক্ষভাবে চিনলেও, আমি মনে করি, এই যুবক রবীন্দ্রনাথের কাজেই আমরা খোঁজ পাই বাংলাদেশি রবীন্দ্রনাথের, কেননা আধ্যাত্মিকতার শেকড় হয়তো কোনো গভীর দর্শন নয়, বরং এই অঞ্চলের নদী, মেঘ আর মানুষের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল।
– নাভিন মুরশিদ