অধ্যাপক আনিসুজ্জামান স্মারক বক্তৃতা
বাংলাদেশের শীর্ষ গবেষক, আমৃত্যু শিক্ষাব্রতী, প্রাবন্ধিক, অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রসারে অগ্রণী ব্যক্তিত্ব ও একটি গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণ-আন্দোলনের ধীমান ভাবুক অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের ষষ্ঠ প্রয়াণ দিবস ১৪ মে ২০২৫। তাঁর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে স্মরণ করে ‘উনিশ শতকের মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য’ শীর্ষক স্মারক বক্তৃতার আয়োজন করেছে কালি ও কলম।
অনুষ্ঠানে উনিশ শতকের মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য বিষয়ে বক্তব্য রাখবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক-গবেষক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। বক্তাকে পরিচয় করিয়ে দেবেন কালি ও কলমের সম্পাদক সুব্রত বড়ুয়া।
এ আয়োজনে আপনাকে সবান্ধব আমন্ত্রণ।
সন্ধ্যা ৬.৩০ মি., শুক্রবার, ১৬ মে ২০২৫
লেভেল ৭, বেঙ্গল শিল্পালয়
বাড়ি ৪২, সড়ক ২৭, ধানমণ্ডি ঢাকা ১২০৯
ড. আনিসুজ্জামানের জন্ম ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৭-এ কলকাতায়। ঢাকার প্রিয়নাথ হাই স্কুল (বর্তমান নবাবপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়) থেকে তিনি ১৯৫১ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীকালে ১৯৫৩ সালে জগন্নাথ কলেজ থেকে আইএ পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে সম্মান শ্রেণিতে ভর্তি হন। ১৯৫৬ সালে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে বাংলায় বিএ সম্মান ডিগ্রি অর্জন। বিএ সম্মান পরীক্ষায় কলা অনুষদে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘নীলকান্ত সরকার স্বর্ণপদক’ লাভ করেন। এর পরের বছর একই বিষয়ে এমএ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। পরবর্তীকালে তিনি পিএইচ.ডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। তার পিএইচ.ডির বিষয় ছিল, Thoughts of the Bengali Muslims as reflected in Bengali Literature during the British period (১৭৫৭-১৯১৮) [ইংরেজ আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা (১৭৫৭-১৯১৮)]। কর্মজীবনে তিনি ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন। পরবর্তীকালে তিনি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক এবং সর্বশেষ জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া দেশ-বিদেশে বহু বিশ^বিদ্যালয়ে শিক্ষাদান করেছেন তিনি।
শৈশবকাল থেকেই সাহিত্যের প্রতি আনিসুজ্জামানের ছিল গভীর আগ্রহ। তিনি বিভিন্ন সময়ে সাহিত্য-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে। তিনি বহু ধারার কাজের মধ্যে বাঙালির স্বরূপের অনুসন্ধান ও বহুত্ববাদী সংস্কৃতির চিন্তা ও ভাবুকতায় যে-মাত্রা সঞ্চার করেছিলেন তা এদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার ক্ষেত্রকে প্রসারিত করেছে। তাঁর চিন্তা ও সকল প্রয়াসে এই অনুসন্ধান প্রত্যক্ষ করা যায়। উল্লিখিত বহুবিধ কর্মের মধ্য দিয়ে তিনি বাঙালি মনীষার শ্রেষ্ঠ প্রতিনিধি হয়ে উঠেছিলেন। কৈশোর-উত্তীর্ণ কাল থেকে তাঁর সামাজিক দায় ও অঙ্গীকার গড়ে উঠেছিল। এই দায়ই তাঁকে সর্বদা চালিত করেছে বহুমুখিন সাংস্কৃতিক, সাহিত্যিক ও সামাজিক আন্দোলনকে খরপ্রবাহিনী করে তুলতে। তাঁর চরিত্র মাধুর্য, স্বভাবধর্ম ও সৌজন্যে যে-বিনয় ছিল এবং সকলকে ভালোবাসা ও স্নেহ করার যে-উজ্জ্বল প্রকাশ ছিল তা ড. আনিসুজ্জামানকে করে তুলেছিল এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। বহু লেখক, শিক্ষক, শিল্পী, শিক্ষার্থীকে দেশচেতনায় উদ্দীপিত করেছেন তিনি। জাতীয় ও সামাজিক সংকটকালে তাঁর নেতৃত্বের দায় বহন এ-অঞ্চলের বাঙালিকে প্রাণিত করেছে পথ চলতে। তাঁর অবদান ও কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পদক প্রদান করেছে। এছাড়া তিনি একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। ভারত সরকার তাকে পদ্মভূষণ পদক দিয়ে সম্মানিত করেছে। এছাড়াও তিনি আনন্দ পুরস্কার, জগত্তারিণী পদকসহ বিভিন্ন বিদেশি সম্মাননা ও পদক লাভ করেন। এ পর্যন্ত তাঁর অর্ধশতাধিক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি অসংখ্য বইও সম্পাদনা করেছেন।
বাংলাদেশের শীর্ষ গবেষক, আমৃত্যু শিক্ষাব্রতী, প্রাবন্ধিক, অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রসারে অগ্রণী ব্যক্তিত্ব ও একটি গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণ-আন্দোলনের ধীমান ভাবুক ড. আনিসুজ্জামান ১৪ মে ২০২০ সালে পরলোকগমন করেন। তিনি স্ত্রী, দুই কন্যা ও এক পুত্রসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।