Mastercraftspersons Award and Crafts Fair
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক বিদ্যাপীঠে বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদ ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশন এর আয়োজনে শ্রেষ্ঠ কারুশিল্পী পুরস্কার ১৪২২ ও কারুমেলা শুরু।
ঢাকা: ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬
এদেশের হারিয়ে-যাওয়া হস্ত ও কারুশিল্প অন্বেষণ, ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার এবং কারুশিল্পীদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ২০১০ সালে বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদ ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশন প্রথমবারের মতো যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ কারুশিল্পী পুরস্কার ও কারুমেলা প্রবর্তন করে। সেই ধারাবাহিকতায় এ বছর চারটি শিল্পমাধ্যমে চারজন শ্রেষ্ঠ শিল্পীকে সম্মাননা জানানো হচ্ছে। প্রত্যেককে সম্মাননা স্মারক, প্রশংসাপত্র ছাড়াও নগদ ৫০ হাজার টাকা করে অর্থ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। এ বছরের পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পীরা হচ্ছেনÑ আদি টাঙ্গাইল বয়নশিল্পী রাজ্জাক, শঙ্খশিল্পী অনুপ নাগ, শোলাশিল্পী নিত্য মালাকার ও চিত্রিত মাটির পুতুলের শিল্পী বিজলী রানী পাল। পুরস্কারগুলো শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, পটুয়া কামরুল হাসান, শিল্পী রশিদ চৌধুরী এবং অধ্যক্ষ তোফায়েল আহমদকে উৎসর্গ করা হয়েছে।
আজ ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ বিকাল ৪টায় ধানম-ির জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক বিদ্যাপীঠে (বাসা ৬০, সড়ক ৭/এ, ধানম-ি, ঢাকা) অনুষ্ঠিতব্য কারুশিল্পী পুরস্কার ও কারুমেলা ১৪২২ যৌথভাবে উদ্বোধন করেন মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল এবং লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরের পরিচালক রবীন্দ্র গোপ।
অনুষ্ঠানে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী কারুশিল্পী পুরস্কার ও কারুমেলার প্রেক্ষাপট নিয়ে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন।
কারুশিল্প পরিষদের মনিরা ইমদাদ তাঁর বক্তব্যে বললেন পুরস্কার বিতরণের জন্য প্রকৃত কারুশিল্পী খুঁজে বের করা বেশ কষ্ঠসাধ্য ছিল, পুরস্কৃৃতরা কোন ভাবেই কোন ব্রান্ড বা কোন বুটিক হাউজের সাথে যুক্ত নয়, তারা নিজের কাজ নিজের মত করেই করে। পন্যের মার্কেটিং বিষয়ে ধারনাও তাদের নেই বললেই চলে। সমাজে কারুশিল্পীদের পরিচিত হওয়ার জন্য তিনি প্রচার মাধ্যমের সহযোগিতা চাইলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাকমা বয়নশিল্পের কারুশিল্পী শরৎমালা, তিনি ধন্যবাদ জানিয়ে বললেন, আমি রাঙ্গামটি থেকে আসছি, আসতে পেরে আনন্দিত বোধ করছি। আমি একজন কারুশিল্পী, এখনো কোমরতাঁত এ কাপড় বুনি, আমার জন্য আর্শীবাদ করবেন আপনারা।
বক্তব্য রাখেন সোনারগাঁও লোক কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালক কবি রবীন্দ্র গোপ, কারুশিল্পীরা সত্য ও সুন্দরের মধ্যে দিয়ে কাজ করে যায়, এই শিল্পীরা কেউ বাঁশ/বেত দিয়ে, কেউবা সুতোয় সুতোয় কাঁথা সেলাই করতে আবার কেউ শাঁখায় তার কারুকর্মটি ফুটিয়ে তোলেন, পুস্পিত করে তোলেন তাঁর উপস্থাপন দিয়ে। মেলাতে প্রদর্শিত প্রতিটি কারুপন্য এই মানুষগুলোর স্বপ্নের সফল বাস্তবায়ন। শেষে জাতীয় কারুশিল্প পরিষদ ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের এই মহৎতম উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।
মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, আমরা এমন একটা অনুষ্ঠানে সমবেত হয়েছি যে অনুষ্ঠানটা আমাদের নতুন করে চিনতে শেখায়, নতুন করে নিজের দিকে তাকাবার আতœপরিচয়ের, আতœউপলব্ধির একটা জায়গায় এনে দাঁড় করায়। কারুশিল্পীরা তাঁদের সৃজনে, সৃষ্টিশীলতায় সচেষ্ট আছেন, এই তৈরী করার ক্ষমতা আসলে মানুষ হল বিশ্বকর্মার প্রতিভু, সেই প্রতিভু হয়ে যে সৃষ্টির সংঙ্গে যুক্ত থাকা, তাঁরা আমাদের শিকড়ের পরিচয় বার বারই আমাদের সামনে তুলে ধরছেন। পুরস্কার প্রাপ্তদের অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন।
আজ হতে শুরু হয়ে মেলা চলবে ৮ ফেব্রুয়ারি প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। পুরস্কারপ্রাপ্ত চারটি মাধ্যমসহ মেলায় ১১টি মাধ্যমে কারুপণ্য বিক্রয়ের জন্য প্রদর্শিত হচ্ছে। মাধ্যমগুলো হলোÑ শঙ্খ, শোলা, চিত্রিত মাটির পুতুল, তাঁতের শাড়ি, আদিবাসী কারুশিল্প, পাটজাত শিল্প, কাঁথাশিল্প, গামছা ও লুঙ্গি, ধাতবশিল্প, বাঁশজাত শিল্প ও হাতে আঁকা পটচিত্র।
জাতীয় কারুশিল্প পরিষদ: স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান কারুশিল্প তৈরি ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত হয়। এ সময় দেশের ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের পুনরুজ্জীবন ও প্রসারের প্রয়োজন দেখা দেয়। সেই তাগিদ থেকেই ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদ। এই প্রয়াসের নেপথ্যে ছিল পটুয়া কামরুল হাসানসহ ১১ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির সময়োপযোগী উদ্যোগ ও কর্মতৎপরতা। জাতীয় কারুশিল্প পরিষদের মূল লক্ষ্য হারিয়ে-যাওয়া শিল্প পুনরুজ্জীবিত করা ও শিল্পীদের যথার্থ পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে কারুশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা। সামাজিক দায়বদ্ধতার দৃষ্টিকোণ থেকে জাতীয় জীবনে কারুশিল্পাঙ্গনকে সুসংহত করা।
সূচনালগ্ন থেকে বেশ কিছু ধারাবাহিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে সচেষ্ট হয়েছে জাতীয় কারুশিল্প পরিষদÑ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রদান করেছে সম্মাননা ও প্রচলন করেছে প্রতি দুবছর অন্তর শ্রেষ্ঠ কারুশিল্পী পুরস্কার। এ পর্যন্ত ৪৬টি মাধ্যমে মোট ৬৭ জন কারুশিল্পীকে সম্মানিত করা হয়েছে। এছাড়া ব্র্যাকের আর্থিক সহায়তায় এবং শিলু আবেদ ট্রাস্টের সহযোগিতায় প্রতি বছর একজন কারুশিল্পীকে আজীবন অবদানের জন্য সম্মানিত করা হয় শিলু আবেদ শ্রেষ্ঠ কারুশিল্পী পুরস্কারে।
বেঙ্গল ফাউন্ডেশন: বেঙ্গল ফাউন্ডেশন শিল্প-সংস্কৃতি পরিচর্যাকারী একটি ট্রাস্ট যা আশির দশকে প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সমকালীন চর্চার বার্তা দেশে-বিদেশে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিগত বছরগুলোয় বেঙ্গল ফাউন্ডেশন সংগীত, সাহিত্য, কারুশিল্প, চলচ্চিত্র, স্থাপত্যশিল্প এবং চারুকলা বিষয়ে বহু তৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ২০১০ সাল থেকে কারুশিল্পীদের পুরস্কার প্রদান এবং মূলধারার কারুশিল্পীদের নিয়ে মেলা আয়োজনে জাতীয় কারুশিল্প পরিষদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন।
কারুমেলা: এই আয়োজনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে কারুশিল্পীদের বাছাই করে, কারুমেলায় অংশগ্রহণের জন্য তাঁদের ঢাকায় এনে নগরীর বিপণন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা। বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদ ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে প্রায় ছয় মাস আগে জরিপ চালিয়ে সারা দেশে ঐতিহ্যবাহী অথচ প্রায়-বিলীন শিল্পমাধ্যমগুলোকে চিহ্নিত করা হয়। বাজারের আকর্ষণে যাঁরা নিজের কাজের মান বা শিল্পগুণ কখনো খাটো করেননি, বংশপরম্পরায় প্রাপ্ত প্রশিক্ষণ ও শিল্পবোধকে ম্লান হতে দেননি অথচ পরিবর্তিত সামাজিক-অর্থনৈতিক আবহে যাঁদের জন্য টিকে থাকা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁদেরই খুঁজে বের করে পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন করা হয়। বলা বাহুল্য, প্রতি বছর এমন কারুশিল্পীদের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে।
মেলার লক্ষ্য কারুশিল্পীদের উৎসাহিত করা, নগরীর বিপণন ব্যবস্থার সঙ্গে তাঁদের যুক্ত করা এবং লোকশিল্পের বিভিন্ন ধারাকে জনপ্রিয় করে তোলা। কারুমেলার জন্য যেসব কারুশিল্পীকে বাংলাদেশের বিভিন্ন (বহু ক্ষেত্রে প্রত্যন্ত) অঞ্চল থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয় তাঁদের আসা-যাওয়া ও ঢাকায় অবস্থানকালীন থাকা-খাওয়া-যাতায়াতের সম্পূর্ণ ব্যয় কারুশিল্প পরিষদ ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশন বহন করে। মেলার সমুদয় ব্যবস্থাপনা এই প্রতিষ্ঠানদ্বয় করে থাকে। কারুশিল্পীরা মেলায় যা আয় করেন তার পুরোটাই নিজের জন্য সংরক্ষণ করেন।
কারুমেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত কারুশিল্পীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ প্রতি বছর এই আয়োজনে নতুন মাত্রা সঞ্চার করে থাকে। কারুশিল্পীদের অনিঃশেষ সৃষ্টিদক্ষতা সবার সামনে তুলে ধরতে পেরে আমরা নিজেদের ধন্য মনে করছি।
এই প্রয়াস ক্ষুদ্র হলেও কারুশিল্পীদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, সৃজনী উদ্যোগে এটি নতুন গতিবেগ সঞ্চার করে বলে আমরা বিশ্বাস করি। কারুশিল্পে হাজার বছরের ঐতিহ্যকে সমকালীন প্রেক্ষাপটে উপলব্ধির একটা সুযোগ এখানে তৈরি হয়। এই উপলব্ধির মধ্য দিয়েই হয়তো কারুশিল্পে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ব্যাপ্ত দীক্ষা, প্রজ্ঞা, লালিত রুচি ও নান্দনিক বোধের সঙ্গে পরিমিত মাত্রায় যুক্ত হবে আধুনিক মনন ও বোধ। কারুশিল্প যথার্থভাবে বেঁচে থাকার পক্ষে সহায়ক একটি সংবেদ তৈরি হবে। আমরা আশাবাদী আমাদের দৈনন্দিন জীবনধারার সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প সার্বিকভাবে যুক্ত হবে।
………………………………………………………………………………………………………………………….
শ্রদ্ধেয় সম্পাদক/বার্তা সম্পাদক/ চিফ রিপোর্টার
জনাব,
উপরোক্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি আপনাদের প্রচার মাধ্যম দ্বারা যতেœর সঙ্গে প্রচারের এবং উক্ত অনুষ্ঠানে প্রতিবেদক ও আলোকচিত্রী/ক্যামেরা ইউনিট পাঠানোর জন্য বিনীত অনুরোধ জানাই।
ধন্যবাদ জানিয়ে,
জাহিদুল হক
ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপক, বেঙ্গল ফাউন্ডেশন







