সঙ্গীতজ্ঞ আজাদ রহমানের মৃত্যুতে আমরা শোকাহত

বরেণ্য সংগীতজ্ঞ আজাদ রহমান মারা গেছেন। আজ শনিবার ১৬ মে রাজধানীর শ্যামলীতে একটি হাসপাতালে বেলা সাড়ে ৪টায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে আমরা শোকাহত।

‘জন্ম আমার ধন্য হলো মা গো’, ‘ভালোবাসার মূল্য কত’, ‘ও চোখে চোখ পড়েছে যখনই’, ‘মনেরও রঙে রাঙাব’, ‘ডোরা কাটা দাগ দেখে বাঘ চেনা যায়’, ‘এক বুক জ্বালা নিয়ে বন্ধু তুমি’সহ বহু গানের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন আজাদ রহমান। কোনোটির সুরকার তিনি, কোনোটির সংগীত পরিচালক।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত বরেণ্য সংগীত পরিচালক আজাদ রহমান ১৯৪৪ সালের ১ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খেয়ালে স্নাতক সম্পন্ন করেন। তিনি ষাটের দশকের মাঝে পাকিস্তান রেডিওতে (ঢাকা কেন্দ্র) যোগদান করেন এবং তৎকালীন ন্যাশনাল একাডেমী অফ পারফরমেন্স আর্টস –এ নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আজাদ রহমান দুইদফায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীতে মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

তাঁকে বাংলা খেয়ালের জনক বলা হয়। আশির দশকে তিনি প্রথম বাংলা খেয়ালের এ্যালবাম পরিচালনা করেন এবং বাংলা কাওয়ালিসংগীতে সূর ও কণ্ঠ দেন। বাংলা একাডেমি থেকে দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে আজাদ রহমানের লেখা সংগীত বিষয়ক বই ‘বাংলা খেয়াল’। বাংলাদেশে স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে তিনি নির্মাণ করেছিলেন ‘গোপন কথা’ নামের একটি সিনেমা।
১৯৭৭ সালে ‘যাদুর বাঁশি’ চলচ্চিত্রের জন্য এবং ১৯৯৩ সালে ‘চাঁদাবাজ’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। ‘চাঁদাবাজ’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ গায়ক হিসেবেও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।

Enter your keyword