আগামী শনিবার ২২ জুলাই ২০১৭ ছায়ানট মিলনায়তনে দিনু ঠাকুরের গানের সংকলন নিয়ে সুকান্ত চক্রবর্তী ও অভিজিৎ মজুমদারের কণ্ঠে ধারণ করা অ্যালবাম আমার বেদনা লহ বুঝি’র মোড়ক উন্মোচন করা হবে।

অনুষ্ঠানে আপনি সবান্ধব আমন্ত্রিত।

দিনু ঠাকুরের গানের সংকলন
আমার বেদনা লহ বুঝি
সন্ধ্যা ৭টা, শনিবার, ২২ জুলাই ২০১৭
ছায়ানট মিলনায়তন, বাড়ি ৭২, সড়ক ১৫এ
ধানমণ্ডি আ/এ, ঢাকা ১২০৯


অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন করবেন
বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী মিতা হক

অনুষ্ঠানে সুকান্ত চক্রবর্তী ও
অভিজিৎ মজুমদার
সংগীত পরিবেশন করবেন  

রবীন্দ্রসংগীতের যাঁরা অনুরাগী, তাঁরা অনেকেই সমান অনুরাগে মনে রাখেন দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম। তিনি যে দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৌত্র, একথার চেয়ে বেশি মনে থাকে এই তথ্য যে, রবীন্দ্রনাথ তাঁকে বলতেন তাঁর ‘গানের ভা-ারী’। সুর দিয়ে ভুলে যেতেন নিজে, তাই সঙ্গে সঙ্গে তাঁর দরকার হতো তাঁর স্নেহের দিনুর স্বর আর স্বরলিপির সহায়তা। তা না হলে কত গানই যে চলে যেত বিস্মরণে! তাই দিনেন্দ্রনাথের কাছে আমাদের অশেষ ঋণ।
কিন্তু সেই সঙ্গে এও সত্যি যে, আমরা অনেকেই ভুলে গেছি বা কখনো জানিইনি তাঁর অন্য অনেক পরিচয়। এই দিনেন্দ্রনাথই নিজেও ছিলেন কবিতা বা গানের রচয়িতা, শুধু স্বরলিপিকারই ছিলেন না তিনি, তিনি ছিলেন সুরকারও। ‘বীণ’ নামে একখানি কবিতার বই ছিল তাঁর, কখনো কখনো মনের আনন্দে চিঠিও লিখতেন ছন্দে, আর সুরসহ নিজের গানও তৈরি করেছিলেন বেশ-কিছু। তাই জাহাজযাত্রী রবীন্দ্রনাথ একবার তাঁর সদ্যরচিত একটি গান পাঠিয়ে দিনেন্দ্রনাথকে লিখতে পেরেছিলেন : ‘তুই তোর সুরে গাইতে চেষ্টা করিস তা আমার সঙ্গে মেলে কি না দেখব…।’
দিনেন্দ্রনাথের লেখা সেসব গানে বা কবিতায়, সুরে বা কথায় রবীন্দ্রনাথের ছায়া আছে অবশ্যই, কিন্তু তা সত্ত্বেও, আছে কিছু স্বকীয়তারও চিহ্ন। কোথায় গেল সেসব? এমন নয় যে কোথাও পাওয়াই যায় না সেই গান আর তাঁর স্বরলিপি, কিন্তু তবু সেই সুরশিল্পীকে আমরা চিনি না প্রায় কেউই।
এতকালের দীর্ঘ অবহেলার পর, দুই বাংলার দুই সাহসী তরুণ, সুকান্ত আর অভিজিৎ, বিস্মৃত সেই গানগুলি থেকে ন-খানি গান বেছে নিয়ে আমাদের উপহার দিচ্ছেন সযত্ন ভালোবাসায়। এ-দুই তরুণের কাছে আমাদের তাই কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।

– শঙ্খ ঘোষ

Enter your keyword